বাংলা ভাষা নিয়ে বর্তমান সময়ে অনেক জল ঘোলা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, বাংলা ভাষায় হিন্দুয়ানী শব্দ বেশী ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছে বাংলা ভাষায় আরবি,ফারসি শব্দ বেশী ব্যবহার করে বাংলাকে বিকৃত করা হচ্ছে।
.
অনেকে আবার ভাষাকে ধর্মের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ করতে চাচ্ছে। যেমন স্নান,জল এই শব্দগুলো শুধু হিন্দুরা ব্যবহার করবে। একইভাবে গোসল,পানি এই শব্দগুলো মুসলমানরা ব্যবহার করবে।
.
অনেকে ইংরেজী অক্ষরে বাংলা লিখছে যেমনঃ amar sunar bangla। অনেকে আবার বাংলা,ইংরেজী,হিন্দি,উর্দু এক বা একাধিক ভাষার শব্দ একই বাক্যে ব্যবহার করছে।
.
কেউ কেউ আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার জন্য বন্ধুমহলে ঠাট্টা-বিদ্রুপের শিকার হচ্ছে।
আবার অনেকে সচেতনতা সৃষ্টি করছে যে সামাজিকতা রক্ষা করতে কষ্ট করে কেন প্রমিত ভাষায় কথা বলতে হবে? আমরা আমাদের নিজের মায়ের ভাষায় (আঞ্চলিক ভাষা) কথা বলবো।
.
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বস্তরে বাংলা নিশ্চিতের তাগিদে বাংলায় সাইনবোর্ড লেখা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা প্রদান করে হাইকোর্ট। কিন্তু বর্তমানে সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড সব জায়গা ইংরেজী ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে।
.
বাংলা ভাষা নিয়ে এসব তর্ক বির্তক দেখে অনেকে আবার আক্ষেপ করে বলে "এসব দেখার জন্যই কি আমাদের পূর্বপুরুষেরা রাজপথে তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ভাষা আন্দোলন করেছিল?"
.
বর্তমান প্রজন্ম কিংবা অনেকের ভাষায় দুই শব্দ যোগ করে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ডুবে থাকা বর্তমান প্রজন্মকে অনেকে বাংলা ভাষার তথাকথিত বিকৃতির জন্য দায়ী করে থাকেন।
.
কিছু দিন আগে মানুষের দোকানে ইংরেজিতে লেখা সাইনবোর্ডে (Bata, Oppo) লাল কালি, রং দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা।
.
সব জীবন্ত ভাষা যেখানে পাহাড়ি নদীর মতো গতিশীল, সেখানে ভাষাকে কি কোনো বাধ্যবাধকতা দিয়ে আটকে রাখা যায়?
.
সব জীবিত ভাষা গতিশীল, যা ভাষাকে করে সংস্কৃত, আধুনিকতর। ফলে বানান পরিবর্তিত হয়, অব্যবহূত শব্দ বাদ পড়ে,পারিভাষিক শব্দ এসে যোগ হয়।
.
দুইশত বছর আগের বাংলার সাথে বর্তমান বাংলার অবশ্যই অনেক পার্থক্য রয়েছে।
দুইশত বছর পরে বাংলা ভাষা কেমন থাকবে সেটা সময়ই বলে দিবে। কেউ এখনই বাধ্যবাধকতা দিয়ে আটকে রাখতে পারবে না।
.
সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে নিয়ম করে, জোড় জবরদস্তি করে সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন করা যাবে না। যেখানে বহিঃবিশ্ব দূরে থাক দেশের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার জন্য ইংরেজি ব্যবহার করা হয়। সেখানে নতুন প্রজন্ম নিজের জীবনের প্রয়োজনেই ইংরেজি শিখছে এবং স্বাভাবিকভাবেই বাংলা-ইংরেজির মিশ্রণ ঘটাচ্ছে।
ভাষার প্রতি ভালোবাসা থাকলে, নতুন প্রজন্মকে দোষারোপ না করে যদি সম্ভব হয় তবে উচ্চশিক্ষা সহ সবক্ষেত্রেই বাংলার প্রচলন করুন। যেন বাংলা এমন একটা ভাষা হয়, যার বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় কোনো ভাষা ব্যবহার করা না লাগে। রোগের লক্ষন দেখে হাউমাউ করে না কেঁদে রোগের ভাইরাসকে সমূলে উপড়ে ফেলুন।
.
অথবা ভাষাকে সময়ের কাছে সমর্পণ করুন। সময় ভাষাকে ভাষার আপন গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

.jpg&w=3840&q=75)

