গণতন্ত্র-আলাপ ২৫: "দাম দিয়াছি একাত্তুরে"
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক আয়োজন করছে বিশেষ গণতন্ত্র-আলাপঃ “দাম দিয়াছি একাত্তুরে”। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা। ২ থেকে ৪ লক্ষ নারী বর্বরতম নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের হাতে। আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অগুনতি মানুষ। পুরো দেশটাকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে, খুব চড়া দাম দিয়েই আমরা পেয়েছি বাংলাদেশকে। বিজয়ের মাসে আমরা শ্রদ্ধাভরে সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চার যাবতীয় ফ্যাসিবাদী বয়ানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও একটা জনগণের ইতিহাস (পিপলস হিস্টোরি)-কে সামনে তুলে ধরাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে বিবেচনা করে। মুক্তিযুদ্ধের এই ফ্যাসিবাদী ইতিহাস চর্চার একদিকে রয়েছে – আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে এক ব্যক্তি, এক দল ও এক পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাব্যবসার মাধ্যমে সেই দলটিকে বারেবারে স্বৈরাচারী, গণতন্ত্র-হত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে ওঠার জমিন তৈরি করা, আর অন্যদিকে রয়েছে – একাত্তরের পরাজিত শক্তির মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নানারকম অপপ্রচার, গুজব, মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তির জাল ছড়িয়ে দেয়া এবং নিজেদের কৃতকর্ম, তথা ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধকে আড়াল করা, জনগণকে সেই স্মৃতি ভুলিয়ে দেয়া, এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনাব্যবসায়ী ফ্যাসিবাদী শাসকের প্রতি জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের একাত্তরের ও একাত্তর পরবর্তী ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সাফাই গাওয়া ও তার প্রতি সম্মতি উৎপাদন। ফ্যাসিবাদী এই দুই বয়ান আপাতদৃষ্টিতে পরষ্পরবিরোধী মনে হলেও, এ এমন এক বাইনারী তৈরি করে, যা প্রতিনিয়ত জনগণকে দুই ভাগে বিভক্ত করে, এবং ক্রমাগত একে অপরকে শক্তিশালী করে। আমরা উভয় বয়ানকেই প্রত্যাখান করি। আমরা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকে একটি প্রকৃত জনযুদ্ধ মনে করি, যেখানে দেশের সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগ ছিল, অংশগ্রহণ ছিল। ফলে কোনোভাবেই “মুক্তিযুদ্ধ কারোর বাপের না”! একইসাথে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ তুচ্ছ কোনো ঘটনা না, “গণ্ডগোল” না, “প্রতিবেশী দেশের চক্রান্তে পাওয়া” বা “দয়ার দান” না!
১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আমাদের এই গণতন্ত্র আলাপে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শহীদ বুদ্ধিজীবী লুৎফুন নাহার হেলেন পরিবারের সদস্য এবং জনপ্রিয় মিমার ও গবেষক পুন্নি কবীর। আরো থাকবেন তরুণ লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আরিফ রহমান। সঞ্চালনা করবেন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সদস্য রাহাত মুস্তাফিজ। এই আলাপে রাজাকার বাহিনীর হাতে শহীদ শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা লুৎফুন নাহার হেলেনের আত্মত্যাগের কাহিনী আমরা শুনবো। আলোচনা করা হবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে এদেশের রাজাকার, আল বদর বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও। একই সাথে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলমান নানা বিতর্ক, বিভিন্ন রকম অপপ্রচার, ধোঁয়াশা তৈরির প্রচেষ্টা, মিথ্যাচার – প্রভৃতি বিষয়েও আলোকপাত করা হবে।
সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই।