গণতন্ত্র-আলাপ পর্ব-১০ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে - শিল্পের ভাষা ও শিল্পীর দায়
আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে মানুষের মাঝে সহনীয় ও গ্রহণীয় করে তুলতে বড় ভূমিকা ছিল শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের। কখনো আওয়ামী চেতনা ব্যবসা বেঁচতে, কখনো উন্নয়নের গাল-গল্প শুনাতে আবার কখনো শেখ হাসিনাকে নিয়ে স্তুতির পসরা সাজিয়ে গান-কবিতা-ছবি গাইতে-লিখতে-আঁকতে তাদের বিরাম ছিল না (লজ্জাও না)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে যখন চোখের সামনে অল্পবয়সী শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছিল, বাবামা'র কোল খালি হচ্ছিলো, তখনও দেশের বড় বড় নামের শিল্পী-সাহিত্যিকদের অনেকেই নীরব ছিলেন। নীরব থাকার বড় কারণ হচ্ছে ভয়, অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের গুন্ডাদের ভয়ে, বা আন্দোলন থেমে যাওয়ার পরে আওয়ামী লীগ কত ভয়ানক নৃশংস হয়ে কী করতে পারবে সেই ভয়ে, বা আওয়ামী লীগের পতন ঘটলে যারা ক্ষমতায় আসবে- তাদেরকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় ও ভয়ে অনেকে মুখে কপাটি দিয়ে বসে ছিলেন। কেউবা নীরব নয়, উল্টো সরব থেকেছেন শেখ হাসিনার পক্ষে। দেশের শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই তুমুল প্রবল দালালি কিংবা নীরবতাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ বা একমাত্র বাস্তবতা ছিল না, বরং জেগে উঠেছিলো নতুন শিল্পী, সাহিত্যিক-গায়ক-কবিরা। তৈরি হয়েছে নতুন ধরণের শিল্পের ভাষা। র্যাপ গান, পোস্টার, চিত্রকর্ম, কার্টুন, সারাদেশের দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি - সবমিলে নতুন বাংলাদেশের আগমনধ্বনি শুনিয়েছিলো, নতুন ধরণের শিল্পের ভাষা নিয়ে। যা গণঅভ্যুত্থানকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, সাহস দিয়েছে, আশা দিয়েছে, গতি দিয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের এই শিল্পের ভাষার স্বরূপ কেমন ছিল? পুরাতন-জীর্ণ ও ফ্যাসিবাদের অনুগত শিল্পের ভাষার সাথে নতুন এই ভাষার পার্থক্য কোন জায়গায়? আর, শিল্পীদের নতুন এই ভাষা তৈরির তাড়নাই বা কী ছিল? শিল্পীর দায় কী? শিল্পীর দায় বলে আদৌ কিছু কি আছে, নাকি শিল্পীদের জন্যে কেবল অবাধ স্বাধীনতা? তো, স্বাধীন শিল্পীদের কেউ ফ্যাসিবাদের দালালি করেছেন, আবার কেউ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শিল্প সৃষ্টি করছেন। এই পার্থক্য হচ্ছে কোন জায়গায়? দায় ও দরদের অভিমুখের ভিন্নতাই পার্থক্যটা গড়ে দিচ্ছে না কি?
এসব নিয়েই আমাদের ভাষা দিবস উপলক্ষে আমাদের আয়োজন গণতন্ত্র-আলাপ পর্ব-১০: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে - শিল্পের ভাষা ও শিল্পীর দায়। এখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই নতুনভাষা তৈরি করা কয়েকজন চিত্রশিল্পী, গ্রাফিতি শিল্পী, চিত্র সমালোচক কথা বলবেন, তাদের অভ্যুত্থানের চিত্রকর্ম দেখাবেন।
আলোচকঃ
মোস্তফা জামান, শিল্পী ও চিত্র সমালোচক
ডেরিল অদ্রি রায়, চিত্রশিল্পী
মহিমা কোরেশী, চিত্রশিল্পী
মুমু মারমা, চিত্রশিল্পী (গ্রাফিতি শিল্পী)
সঞ্চালক
সাকি ফারজানা, সদস্য, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক
সকলকে আলাপটি শুনার ও দেখার আমন্ত্রণ জানাই।