গণতন্ত্র-আলাপ পর্ব-৮ : নির্বাচন - কবে ও কীভাবে?
বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম এর বড় হাতিয়ার হচ্ছে এখানকার নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন ব্যবস্থা। আমাদের নির্বাচন কমিশনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল নিজেদের অনুগতদের বসিয়ে ক্ষমতায় পাকাপোক্ত থাকার চেষ্টা করে। ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে তার পক্ষে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয় না। নির্বাচনে যে টাকার খেলা হয়, যেভাবে কালো টাকা এখানে ঢুকে, বড় দলগুলো যে নির্বাচন বিধির সামান্য তোয়াক্কা করে না - এসবের কোন কিছুই আমাদের নির্বাচন কমিশন বন্ধ করতে পারে না। ফলে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিক যাত্রা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার জন্যে সবার আগে দরকার সরকার ও সরকারী রাজনৈতিক দলের সম্পূর্ণ রকম প্রভাব মুক্ত স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। সে লক্ষে আমাদের নির্বাচন কমিশনকে গড়ে তুলতে কোন জায়গায় ও কিভাবে সংস্কার দরকার?
একইভাবে, আমাদের আসনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা, যাকে বলা হচ্ছে ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট (এফিপিটিপি), এই নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব সংসদে নিশ্চিত হয় না। অর্ধেকের চেয়ে কম ভোট পেয়ে একটা দল দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে যেতে পারে আর প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভোট পেয়েও একটা দল কোন রকমে এক দশমাংশ আসন পেয়ে টিমটিমে বিরোধী দল হয়ে যেতে পারে। এভাবে যে দল সরকার গঠন করে, সে হয়ে যায় প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। এছাড়া একেকটা আসনের এমপি হয়ে ওঠেন এলাকার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এমপির দৌরাত্ম্যের কারণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাও দাঁড়াতে পারে না। ফলে, আমাদের নির্বাচন কমিশনের সাথে সাথেও দরকার এই নির্বাচন ব্যবস্থারও আমূল (বা আংশিক) পরিবর্তন。
অথচ, এই আলোচনাগুলোকে পাশ কাটিয়েই সম্প্রতি জোরেশোরে সামনে এসেছে নির্বাচন কবে হবে - সেই প্রশ্নটি। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের রোডম্যাপ জানতে চায়। প্রধান উপদেষ্টা ও তার প্রেস সচিব সাম্ভাব্য তারিখও জানিয়েছেন - ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ- ২০২৬ এর প্রথমভাগে, বা ২০২৬ সালের ৩০ জুনের আগে। তখনই প্রশ্ন আসছে, সংস্কার আগে, নাকি নির্বাচন? ফ্যাসিবাদের ও নির্বিচারে গুলির বিচার আগে, নাকি নির্বাচন?
এসব নিয়েই আমাদের পরবর্তী গণতন্ত্র-আলাপঃ "নির্বাচন - কবে ও কীভাবে?"
আলোচকঃ
সামান্তা শারমিন, মুখপাত্র, জাতীয় নাগরিক কমিটি
ড. মারুফ মল্লিক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
অনুপম সৈকত শান্ত, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট, সদস্য, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক
সঞ্চালকঃ
মোস্তফা ফারুক, প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও সদস্য, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক
অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ডিসেম্বর , শনিবার, বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায়