গণতন্ত্র-আলাপ পর্ব-৬ : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূলনীতি : ফ্যাসিবাদের সুলুকসন্ধান
১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। ১৬ ডিসেম্বরে বজয় লাভের পর থেকে বিগত ৫৩ বছর রাষ্ট্র গঠনের কাজটি আমরা সঠিকভাবে করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে বারেবারে একদলীয় স্বৈরাচারী-ফ্যাসিবাদী বাকশালী শাসনকাঠামো আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে, তার পেছনে রয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষীগত করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একতরফা একটি দলের ও একক ব্যক্তির বীরত্বগাঁথায় আবদ্ধ করার মাধ্যমে বাকি সকলকে অগৌণ, অগ্রাহ্য ও অপর করা। মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত চেতনার নামে চেতনা ব্যবসা করে করেই দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে দেশটিকে দলের ও ব্যক্তিগত, কিংবা দলের ও পৈত্রিক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে! এভাবেই ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এমন ইতিহাস চর্চাকেই আমরা বলছি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ফ্যাসিবাদী বয়ান, যে বয়ান ইতিহাসের কেবল একটি সুনির্দিষ্ট বয়ান বাদে বাকি সকল বয়ানকেই ইতিহাস বিকৃতির নাম দিয়ে মুছে দেয়। বিপুল সংখ্যক জনগণের মাঝে এমন এক ইল্যুশন তৈরি করতে সক্ষম হয় যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রগতিশীল শক্তিও সেই ফাঁদে পা দেয়। মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদারি নেয়া দলটির নানান অপকর্ম ও অপশাসনের বিপরীতে জনগণের বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আবার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়কার ফ্যাসিবাদী ও পরাজিত শক্তি পাল্টা ইতিহাসের বয়ান তৈরি করতে চেস্টা করে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধকেই অকিঞ্চিত ও অগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে হাজির করার প্রয়াশ থাকে, মুক্তিযুদ্ধের বিপুল ত্যাগ-তিতিক্ষাকে খাটো করার মাধ্যমে, বা পরাজিত শক্তির অপরাধকে আড়াল করার মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধের এক ফ্যাসিবাদী বয়ানের বিপরীতে এমন আরেক ফ্যাসিবাদী বয়ানে ভীত হয়ে প্রগতিশীল পক্ষরা ফাঁদে আরো ব্যাপকভাবে আটকে পড়ে যায়, মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত "স্বপক্ষ শক্তি" গড়ে তুলে এবং এর মাধ্যমে বস্তুত দলটির কোলে পিঠে চড়ে বসে। এই লক্ষেই বাস্তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গত ৫৩ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে জিইয়ে রেখেছে, লালন পালন করেছে, কেননা এই "স্বপক্ষ" ও "বিপক্ষ" শক্তিই কেবল একে অপরকে হৃষ্ট পুষ্ট করতে পারে! এভাবেই আমাদের দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনকাঠামোর জমিন গড়ে ওঠেছে।
ফলে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সেই ফ্যাসিবাদী বয়ানকে ভেঙ্গেই আজ আমাদের রাষ্ট্র গঠন বা পুনর্গঠনের কাজটিকে এগিয়ে নিতে হবে। সে লক্ষেই আমাদের ধারাবাহিক আয়োজনঃ "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসঃ ফ্যাসিবাদী বয়ানের বাইরে"! তারই অংশ হিসেবে বিজয়ের ৫৩ বছর পূর্তিতে আমাদের প্রথম আয়োজন এই গণতন্ত্র-আলাপ "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূলনীতিঃ ফ্যাসিবাদের সুলুকসন্ধান"!
আলোচক হিসেবে থাকবেনঃ
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যৌথ গেরিলা বাহিনীর কমাণ্ডার এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সাবেক সভাপতি
কমরেড খালেকুজ্জামান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ২ নাম্বার সেক্টরের অধীনে কুমিল্লা সাবসেক্টরের এফএফ বাহিনীর কমাণ্ডার এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন আহবায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপদেষ্টা
জোনায়েদ সাকি, প্রধান সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন
সঞ্চালনা করবেনঃ
ভাস্কর আবেদীন, সদস্য, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক
তারিখঃ ১৫ ডিসেম্বর, রবিবার, বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টায়
আলাপটি দেখার ও শুনার আমন্ত্রণ জানাই এবং আলোচকদের উদ্দেশ্য আপনাদের প্রশ্ন করার আহবান জানাই।