বিবৃতিঃ স্কুলভবনে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের শোক
বিবৃতিঃ স্কুলভবনে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের শোক
* আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা চাই, ক্ষতিপূরণ দাও, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত করো
* জনবহুল এলাকায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও মহড়া নিষিদ্ধ করো
* সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর মুক্ত নিরপদ ঢাকা চাই
* আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা চাই
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের সামনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৭১ জন আহত হয়েছেন (সূত্রঃ আইএসপিআরের বরাতে প্রথম আলো), যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আহতদের জন্যে সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদানে সরকারকে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই এবং এই দুর্যোগ মুহুর্তে রক্ত ও অন্যান্য জরুরি সহযোগিতা সহকারে তাদের পাশে থাকার জন্যে ঢাকাবাসীর প্রতি আহবান জানাই। নিহতদের পরিবার ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণেরও দাবি করছি।
একই সাথে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলছে। চীনে তৈরি এফ-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমানটি প্রশিক্ষণের জন্যে কতখানি উপযোগী ও নিরাপদ ছিল, তা আমরা জানতে চাই। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর, আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, “দুর্ঘটনা মোকাবেলায় এবং বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বিমানের বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বিমানটিকে ঘনবসতি থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিমানটি ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল এবং কলেজের দোতালা একটি ভবনে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে।” এই বিবৃতিতে পরিস্কার যে বৈমানিক নিজের জীবন দিয়ে বিমানটিকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। ফলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি চলে আসে, কেন ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণ চলবে? কেনই বা কুর্মিটোলার মতো আবাসিক ও বেসামরিক এলাকায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে? একই সাথে আমরা প্রশ্ন তুলতে চাই, বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদরদপ্তর জনবহুল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করার যৌক্তিকতা কী?
স্কুলে পাঠরত শিশুদের এহেন অকাল মৃত্যুর দায় কে নেবে? স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশ শিশুদের জন্য এরকম ভয়াবহতম অনিরাপদ একটা দেশে পরিণত হলো কীভাবে?