বিবৃতিঃ নরসিংদী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনের ওপর অন্যায় আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও আইনি প্রতিকারের দাবি
বিবৃতিঃ নরসিংদী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনের ওপর অন্যায় আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও আইনি প্রতিকারের দাবি
আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, নরসিংদী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী মিথ্যা অপপ্রচার, চাকুরিচ্যুত করার হুমকি ও বয়কটের চেষ্টা করছে। ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং মিছিল করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অপমানজনক তথ্য ছড়িয়ে তাঁর জীবন এবং জীবিকার নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে বিপন্ন করার এক নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র চলছে।
ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীলতা নিয়েই নাদিরা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে নারীর প্রতি বৈষম্য রোধ করার জন্যে সংগ্রাম করে চলেছেন। অথচ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং তানযীমুল মাদারিসিল কাওমিয়া তাঁর প্রতি অত্যন্ত অপমানজনক এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁকে ‘ধর্মবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। তাঁর প্রতি এই মিথ্যা অপপ্রচার, গালিগালাজ এবং স্লোগান ব্যবহার সম্মিলিতভাবে তাঁর জীবনের ও জীবিকার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ধর্মকে ব্যবহার করে এই ধরনের সহিংস অপপ্রচার কেবল একজন শিক্ষক বা নারীর ওপর আক্রমণ নয় — এটি আমাদের মুক্তবুদ্ধির চর্চা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত। এমন পরিবেশ নাদিরা ইয়াসমিনের জন্যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণের পথে পরিকল্পিত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
উপরন্তু ধর্মের নামে নারীর বিরুদ্ধে এই সহিংস অপপ্রচার এবং হুমকির মধ্য দিয়ে এই গোষ্ঠীগুলো ইসলাম ধর্মকে নারীর বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা ধর্মের সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী ইসলামবিদ্বেষী বয়ান এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বয়ানকে শক্তিশালী করছেন।
আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমাদের সুস্পষ্ট দাবি:
১। নাদিরা ইয়াসমিনের নিরাপত্তা ও মান-মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
২। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং মিছিলে যারা এই মিথ্যা, অপমানজনক ও নারীবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার করছেন, তাঁদেরকে চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৩। রাষ্ট্রকে সব ধরনের নারীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
৪। কলেজ প্রশাসনকে এ ধরণের হুমকি এবং চাপ উপেক্ষা করে একাডেমিক পরিসরের স্বাধীনতা ও সহকর্মী শিক্ষকের পাশে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
আমরা নাগরিক এবং মানবিক মর্যাদার পক্ষে। আমরা দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই যে—যেখানেই নারীর স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে আঘাত করা হবে, সেখানেই আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
নাদিরা ইয়াসমিন একা নন—আমরা তাঁর পাশে আছি। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের পক্ষে আমাদের আমাদের দৃঢ় অবস্থান নিয়ে।