জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ফ্যাসিবাদী শাসনামলের নিপীড়ন-গুম-খুন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাসহ দায়ী সকলের বিচারের দাবিতে অনলাইন সংবাদ সম্মেলন
১৬ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ২০২৫
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা গত বছরের (২০২৪) জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহনকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিস্ট সংগঠন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে, আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিক বন্ধুদের ও তাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে এবং আজকের সরাসরি প্রচারিত এই সংবাদ সম্মেলনটি যারা দেখছেন ও শুনছেন, আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ও সালাম জানাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলের জুলুম-গুম-খুন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মত অপরাধের বিচারের দাবিতে আমাদের আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।
২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের ওপরে জেঁকে বসা ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটেছে। হাজারও ছাত্র-শ্রমিক-নারী-শিশু-জনতার জীবন ছিনিয়ে নিয়ে হলেও ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গণজোয়ারের কাছে পরাজয় মেনে ৩৬ জুলাইয়ে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পেছনে ফেলে যান ষোলবছরের ফ্যাসিবাদী যাঁতাকলে পিষ্ট, অবাধ দুর্নীতি ও অর্থপাচারে অর্থনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত এবং প্রায় ধ্বসে পড়া আইন-শৃংখলা পরিস্থিতিতে অনিরাপদ ও অরক্ষিত, কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় জেগে ওঠা এক নতুন বাংলাদেশ।
এমনই ক্রান্তিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকার। অন্য সকল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা ও তার আগ পর্যন্ত রুটিন কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা এই অন্তর্বর্তী সরকারের একমাত্র বা প্রধানতম দায়িত্ব ছিল না। বরং, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে গণঅভ্যুত্থানের ফসল এই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত প্রধান তিনটি দায়িত্বের মাঝে রয়েছে:
(১) গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন, শহীদ পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ,
(২) গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ঘটা জুলুম-গুম-খুন, অবাধ দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মত অপরাধের তদন্ত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ, এবং
(৩) ভেঙ্গে পড়া আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইন-শৃংখলা বাহিনী, জনপ্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা ফ্যাসিবাদকে নির্মূলের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালন।
আমরা মনে করি, এই অতি গুরুত্বপূর্ণ গুরু দায়িত্বসমূহ সফলভাবে পূরণ করা শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন উপদেষ্টার পক্ষে সম্ভব নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের ও গণতন্ত্রের পক্ষে আকাঙ্ক্ষা ধারণকারী প্রতিটি মানুষের ও রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ সমর্থন এবং সংগ্রামই এই সরকারকে সেই অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
অন্তর্বর্তী সরকারের গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল গত ২১ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকায় ৮৫৮ জন শহীদ এবং আহতদের তালিকায় ১১ হাজার ৫৫১ জনের নাম প্রকাশ করেছে। এই সেলের তথ্য সংগ্রহ এখনো অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের অধীনে তদন্তকাজও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকাজে স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট -এর মধ্যে সংঘটিত অভিযুক্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবমাননা বিষয়ে একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা করে, যার প্রতিবেদন গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দল।
সিনিয়র কর্মকর্তা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্রের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) নিশ্চিত করতে পেরেছে যে, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের পূর্ণ অবগতি, সমন্বয় এবং নির্দেশনায় পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্ট সহিংস গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে একটি সমন্বিত ও পরিকল্পিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর ফলে শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বলপ্রয়োগ, নির্বিচারে আটক, ও নির্যাতন এবং অন্যান্য ধরনের নিগ্রহের ঘটনা ঘটে।
সরকারি ও বেসরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে OHCHR সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এ বিক্ষোভ চলাকালে শহীদের সংখ্যা অন্তত ১৪০০ জন, যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা ব্যবহৃত প্রাণঘাতী অস্ত্র, সামরিক রাইফেল এবং শটগানের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আরও হাজার হাজার গুরুতর আহতরা জীবন বদলে দেওয়ার মতো গুরুতর আঘাতের শিকার হয়েছেন। OHCHR-র নিকট পুলিশ ও র্যাব প্রদত্ত তথ্য অনুসারে ১১ হাজার ৭ শত জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার ও আটক করা হয়। হতাহতের পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২-১৩ শতাংশ শিশু। পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এই শিশুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
নারীদেরকে অতিরিক্ত যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হতে হয়েছে, যার মধ্যে ছিল লিঙ্গভিত্তিক শারীরিক নির্যাতন। কিছু নথিভুক্ত ঘটনায়, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দ্বারা ধর্ষণের হুমকি এবং শারীরিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠে এসেছে।
আমরা মনে করি, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) -এর এই তথ্যানুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদন পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাসহ দায়ী সকলের বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিকভাবেও শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত অপরাধকে দিবালোকের মত স্পষ্ট করেছে।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
এই পরিপ্রেক্ষিতে, আপনাদের মাধ্যমে আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধসমুহের যথাযথ তদন্ত ও বিচারের কাজটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে সম্পন্ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে যে, একদিকে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে, অন্যদিকে সারাদেশে আওয়ামী নেতাকর্মী ও পুলিশ, আধাসামরিক, সামরিক এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি মারণাস্ত্র সহকারে সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান স্বয়ং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা শাখার তৎপরতাগুলো সমন্বয় করতেন এবং নেতৃত্ব দিতেন।
এই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের মাত্রা মূল্যায়ন সাপেক্ষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন, বিস্তারিত তদন্ত সম্পন্ন করে বিচারের কাজকে এগিয়ে নেয়ার দাবি করছি।
দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে এই বিচার কাজ যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার, আসামী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা, জামিন ও আপিল করার অধিকার প্রভৃতি নিশ্চিত করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অবগত আছি যে, ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন ১৯৭৩ এর ত্রুটিসমূহ দূরীকরণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৪ প্রণয়ন করেছে। এখন সরকারের দায়িত্ব এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
একই সাথে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, তাঁরা যেন শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ, যারা দেশ ছেড়ে ভারত সহ বিভিন্ন দেশে পলাতক অবস্থায় অবস্থান করছেন, তাদেরকে দেশে ফেরত আনার জন্যে সেসব দেশসমূহের সাথে পারস্পরিক কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেন, এবং দরকারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা গ্রহণের উদ্যোগ নেন । এক্ষেত্রেও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় এর প্রতিবেদন সরকারকে সহযোগিতা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আপনারা জানেন, ফ্যাসিবাদী শাসকের পতন ঘটলেও, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুরোপুরি অবসান ঘটেনি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনে এখনও ফ্যাসিবাদী আমলের নানা মানবতাবিরোধী ও দুর্নীতির মত অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। ফলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলের জুলুম-গুম-খুনের আলামত বা প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার “আয়নাঘর” পরিদর্শনের বিষয়ে সেনাবাহিনীর বাধাপ্রদান বা সময়ক্ষেপন, এবং ৬ মাস পরে প্রধান উপদেষ্টা আয়নাঘর পরিদর্শনে যাওয়ার পরে আয়নাঘরের বিভিন্ন রকম আলামত নষ্ট – প্রভৃতি অভিযোগ সামনে এসেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব আর্মড ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (DGFI), ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (NSI) ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (NTMC) এবং পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (CTTC) – এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের দমনের নামে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা উঠেছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, এই বাহিনীগুলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে “আয়নাঘর” হিসেবে চিহ্নিত টর্চার সেল বানিয়ে গুম-খুনের সাথে জড়িত ছিল। ফলে, সরকারের কাছে আমরা এই বাহিনীগুলোর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের নাম ও কার্যক্রমকে শ্বেতপত্র হিসাবে জনগণের কাছে প্রকাশ ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা, এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট গণবিরোধী নিবর্তনমূলক আইন বাতিল বা প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে বাহিনীগুলোর পুনর্গঠন এবং নিপীড়ক বাহিনী হিসেবে তাদের ব্যবহার নিষিদ্ধের উদ্যোগ, RAB ও NTMC বিলুপ্ত করা, BGB-কে কেবলমাত্র সীমান্তরক্ষার কাজে সীমিত রাখা, এবং DGFI-এর ক্ষমতা আইনের মধ্যে সীমিত রাখার দাবি জানাচ্ছি।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশে ও বিদেশে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা নানারকম ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে, নানাভাবে উসকানির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ সরকার প্রতিষ্ঠিত আছে দেখাতে চাচ্ছে, এবং বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদের কবলে পতিত রাষ্ট্র হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সুবিধাপ্রাপ্ত ও আওয়ামী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় যেসব ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ক্রিয়াশীল ছিল, তাদেরকে নতুন করে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে, তাদেরকে উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর কাজটিতেও ফ্যাসিবাদী শক্তির সংযোগ থাকা অস্বাভাবিক নয়।
ফলে, আপনাদের মাধ্যমে, বাংলাদেশের জনগণের কাছেও আমরা এহেন অবস্থায় যেকোন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করে, যেকোন ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও উসকানিকে নস্যাৎ করতে এবং জনগণের মাঝে ঐক্য বজায় রাখতে সচেষ্ট হওয়ার আহবান জানাই।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
পরিশেষে, আমরা ভারত সরকারের কাছে আহবান জানাই, তারা যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লালন-পালন না করে, বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে, এবং কোনভাবেই ভারতের মাটিতে বসে তাঁকে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত-উসকানিতে ভূমিকা রাখতে না দেয়।
ভারতীয় মিডিয়ার কাছে আমাদের অনুরোধ, তারা যেন বাংলাদেশকে নিয়ে সমস্তরকম মিথ্যা প্রচার-প্রোপাগান্ডার পথ পরিহার করে এবং এহেন মানবতাবিরোধী অপরাধীর উসকানিমূলক ও বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য প্রচার করে তার অপরাধের ভাগীদার না হয়।
সেইসাথে, আমরা ভারতের সংগ্রামী জনগণ ও সমস্ত প্রগতিশীল রাজনৈতিক – সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জনমুখী বুদ্ধিজীবীর প্রতি আহবান জানাই, তাঁরা যেন শেখ হাসিনার মত ছাত্র ও শিশু হত্যার মত অপরাধের সাথে জড়িত এক ফ্যাসিবাদী শাসকের বোঝা বহনের হাত থেকে মুক্ত হতে তাদের সরকারের ওপরে চাপ প্রয়োগ করেন, এবং বাংলাদেশের আপামর জনগণের সংগ্রামের পাশে এসে দাঁড়ান।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমাদের এই সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ধন্যবাদান্তে –
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সদস্যবৃন্দ