নূরুল কবীরের সাথে আজফার হোসেনের গ্রন্থালাপ : BIRTH OF BANGLADESH
মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা নিবেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে পাক হানাদার বাহিনী এদেশের নিরস্ত্র জনগণের ওপর অতর্কিতে ঝাপিয়ে পড়ে গণহত্যা শুরু করলে এদেশের বীর জনতা রুখে দাঁড়ায় এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, ২ লাখেরও বেশি নারীর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। একইসাথে স্মরণ করছি, গত জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের, যারা বুকের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত করেছেন।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে , বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৫৪ বছর পার হলেও, আমাদের দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা বলতে যা হয়েছে, তার বড় অংশই দলীয় সংকীর্ণতায় আচ্ছন্ন, এবং দল বা কিছু ব্যক্তির গৌরবগাথার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষীগত করার অবলম্বন।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে বারেবারে একদলীয় বাকশালী ও স্বৈরাচারী-ফ্যাসিবাদী শাসনকাঠামো আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে, তার পেছনে রয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষীগত করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একতরফা একটি দলের ও একক ব্যক্তির বীরত্বগাথায় আবদ্ধ করার মাধ্যমে বাকি সকলকে গৌণ, অগ্রাহ্য ও খারিজ করে দেয়া। মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত চেতনার নামে চেতনা ব্যবসা করে করেই দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে দেশটিকে দলীয় বা ব্যক্তিগত তথা পৈত্রিক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে! আর এভাবেই তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে গেছে।
ফলে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সেই ফ্যাসিবাদী বয়ানকে ভেঙ্গেই আজ আমাদের রাষ্ট্র গঠন বা পুনর্গঠনের কাজটিকে এগিয়ে নিতে হবে। সে লক্ষেই আমাদের ধারাবাহিক আয়োজনঃ “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসঃ ফ্যাসিবাদী বয়ানের বাইরে"!
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বাংলাদেশে খুব অল্প সংখ্যক কাজ হয়েছে, যেখানে সেই দলকেন্দ্রিক বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী বয়ানের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে অনুসন্ধান করা হয়েছে ও তুলে আনা হয়েছে। তার মধ্যে নিউ এজ সম্পাদক ও ইতিহাসবিদ নূরুল কবীরের BIRTH OF BANGLADESH : The Politics of History and the History of Politics গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বইটিতে সেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে, যেই মুক্তিযুদ্ধ একক কোন দলের বা কিছু ব্যক্তির নয়; বরং সেখানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, যেখানে বাংলার কৃষক, বাংলার শ্রমিক বীরত্বপূর্ণ লড়াই ও আত্মত্যাগ করেছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন পাহাড়ের মানুষরা, এদেশের নারীরা। এভাবেই এই গ্রন্থটিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সত্যিকার অর্থে একটি জনযুদ্ধ হিসেবে পাই। কথিত “দুই কুকুরের লড়াই” তত্ত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বামদের নিষ্ক্রিয়তা বা বিরোধিতার গল্প এনে মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকাকে অস্বীকার, খাঁটো ও প্রশ্নবিদ্ধ করার যে প্রচেষ্টা বিদ্যমান ছিল, তার বিপরীতে এই বইটিতে একটি ভিন্ন ইতিহাস উপস্থিত হতে দেখি। যেখানে এদেশের বামপন্থীদের ভারতীয় সরকার ও সেনাবাহিনী, আওয়ামী লীগ এবং মুজিববাহিনীর প্রবল বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই ব্যাপকভাবে এই জনযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।
৫৪ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা গ্রন্থকার নূরুল কবীরের সাথে বইটি নিয়ে আলাপের আয়োজন করছি। গ্রন্থকারের সাথে এই আলাপে অংশ নিবেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটির ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজের অধ্যাপক, গ্লোবাল সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (GCAS) এর সহ-সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সদস্য আজফার হোসেন। অনুষ্ঠানটির শিরোনামঃ নূরুল কবীরের সাথে আজফার হোসেনের গ্রন্থালাপ : BIRTH OF BANGLADESH।
আলাপটি দেখার ও শুনার আমন্ত্রণ জানাই।