আজফার হোসেনের সাথে আলাপ : সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ
ফ্যাসিবাদ কি কেবল শাসন ব্যবস্থায়? রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে? না কি - তার শিকড় আরো অনেক গভীরে? সমাজ মননে, চেতনে? একটা রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের চর্চা গড়ে না ওঠার কারণ কী? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সব অগণতান্ত্রিক হলে, তার শিক্ষাব্যবস্থা, আইন-কানুন বিচার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সমস্ত প্রতিষ্ঠানই যদি অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক হয়, সেই দেশের মানুষের মাঝে তো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে উঠতে পারে না, আবার দেশের মানুষের মাঝে যখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাব থাকে, তখন তো তাদের হাতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় কাঠামো তথা সমস্ত প্রতিষ্ঠান অগণতান্ত্রিকই হবে। ফ্যাসিবাদ কখনোই জনগণের সম্মতি বাদে গড়ে উঠতে পারে না, প্রতিনিয়ত জনগণের মাঝে সম্মতি আদায় করেই ফ্যাসিবাদ টিকে থাকে। সেই সম্মতি আদায়ের পেছনে থাকে নানারকম বস্তুগত লাভ ও লোভ, থাকে চেতনা ব্যবসা, কিংবা থাকে জুজুর ভয়। আর থাকে নানা রকম ধোঁকা, জনগণকে প্রতি মুহুর্তে বোকা বানাতে বানাতেই ফ্যাসিবাদ টিকে থাকে। এসবই ফ্যাসিবাদী জুলুমের দিক থেকে জনগণের বিশাল অংশকে মুখ ফিরিয়ে, চোখ ফিরিয়ে, কান ফিরিয়ে রাখায়; কিন্তু জনগণকে সেখান থেকে ফেরানোর পথ কী? ফ্যাসিবাদী শাসকের মুহুর্তের ভুলে জনগণের চোখের সামনে থেকে পর্দা সরে গেলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বারুদের মত জ্বলে ওঠে কখনো কখনো অভ্যুত্থান ঘটে, অভ্যুত্থানে শাসকের পতন ঘটে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকেই যায়। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়ায় জনগণের চেতনার উলম্ফন ঘটে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আকাঙ্ক্ষার স্ফূরণে জনগণ পরিবর্তন চায়, রাষ্ট্রকে - রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙ্গেচুরে গড়ে তুলতে চায়! কিন্তু, এটাই কি যথেষ্ট হয়? কেন যথেষ্ট হয় না? কেন বারে বারে বেহাত বিপ্লবের বেদনায় পুড়তে হয়? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সংস্কৃতি। জনমানুষের সংস্কৃতির পরতে পতে থাকা ফ্যাসিবাদ যেমন রাজনীতিতে ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়, ফ্যাসিবাদকে লালন-পালন ও হৃষ্টপুষ্ট করে, তেমনি রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদও - সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদকে কেবল পাকাপোক্তই করে না, ফ্যাসিবাদী শাসকের অবসানের পরেও গতিজড়তার মত সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ সচল থাকে ও গণঅভ্যুত্থানকে পেছন দিকে টানতে থাকে。
এই সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন, আজফার হোসেনের সাথে আলাপ। মিশিগানের গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটির ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজের অধ্যাপক এবং গ্লোবাল সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (GCAS) এর সহ-সভাপতি আজফার হোসেন একাধারে তাত্ত্বিক, সমালোচক, দ্বিভাষিক লেখক, কবি, অনুবাদক, অ্যাক্টিভিস্ট - জনবুদ্ধিজীবী। তিনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের খুবই সক্রিয় সদস্যও।
সঞ্চালনা করবেন নৃবিজ্ঞানী ও লেখক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সদস্য সায়েমা খাতুন。
আলাপটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে আগামি ১৫ ফেব্রুয়ারি, স্বৈরাচার এরশাদের মজিদ খান শিক্ষা কমিশন বিরোধী ছাত্র অভ্যুত্থানের ৪২ বছর পরে। ১৯৮৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে (১৪ ফেব্রুয়ারি ও ১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রাণ দিয়েছিলেন জয়নাল, জাফর, দীপালী, মোজাম্মেল কাঞ্চন, আইয়ুব সহ অনেকে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরো অনেকেই। কিন্তু, ফ্যাসিবাদকে কি সমূলে উৎপাটন করা গেলো? যাচ্ছে? যাবে?
সবাইকে আলাপটি দেখার ও শুনার আমন্ত্রণ জানাই।