শিরীন পারভিন হকের সাথে আলাপ : নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন
গত উনিশে এপ্রিল, শনিবার বিকেলে দশ সদস্য বিশিষ্ট নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ইউনুসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন । ‘সর্বক্ষেত্রে সর্বস্তরে নারীর প্রতি বৈষম্য বিলুপ্তি এবং নারী–পুরুষের সমতা অর্জনের লক্ষ্যে পদক্ষেপ চিহ্নিতকরণ’ এই শিরোনামে শুরু হওয়া প্রতিবেদনটিতে মোট ১৫ টি বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব এবং ৪৩৩ টি সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে তিন ধাপে — অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে করণীয়, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মেয়াদে করণীয় এবং দীর্ঘ নারী আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের ভিত্তিতে।
অর্থাৎ, প্রতিবেদনের পরিকল্পনা অনুযায়ী একইসাথে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগের পাশাপাশি, যেই পদক্ষেপগুলো বর্তমানে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় সেসব আকাঙ্ক্ষাও উত্থাপন করা হয়েছে। ফলে, অনেকের মতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসের অন্যতম একটি ঘটনা। বাংলাদেশের নারীদের আকাঙ্ক্ষা এত বিশদভাবে, এত পরিকল্পিত আকারে এর আগে কখনো লিপিবদ্ধ হয়নি বলে অনেকে এই প্রতিবেদনকে ইতিবাচকতার সাথে স্বাগত জানাচ্ছেন। একইসাথে, তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েছে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিটি। সমালোচকদের মতে, এই কমিটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি, এখানে বাংলাদেশের সব ধরণের নারীদের প্রতিনিধিত্ব ছিলনা। কেউ কেউ বলছেন, প্রতিবেদনে স্পর্শকাতর বিষয়ে লেখার সময় বাংলাদেশের ধর্মীয়-সামাজিক-সাংস্কৃতিক পটভূমিকে বিবেচনায় রাখলে অনেকক্ষেত্রে বাড়তি বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া যেতো। অনেকে বলছেন, এই প্রতিবেদন শুধু সেক্যুলার-লিবারেল নারীবাদীদের কণ্ঠ ধারণ করেছে, দেশের সকল নারীর কণ্ঠ ধারণ করার ক্ষমতা এই কমিশনের নেই। আবার অনেকে সরাসরি গোটা কমিটিকে ইসলামবিদ্বেষী বলে দাগিয়ে দিতেও কার্পণ্য করছেন না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ চঞ্চল হয়ে উঠেছে।
ইতোমধ্যে, এই কমিশন বাতিলসহ কয়েকটি দাবিতে সরকারকে ৩ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এছাড়াও রক্ষণশীল বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে এই প্রতিবেদনের বিপক্ষে কড়া সমালোচনা উঠে আসছে। যার ফলে, আবার সেই চিরাচরিত ‘প্রগতিশীল’ বনাম 'রক্ষণশীল' দ্বন্দ্ব উজিয়ে উঠছে। এইরকম পরিস্থিতিতে এই প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্যে আমাদের মাঝে উপস্থিত হবেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভিন হক। তার সাথে আলাপে অংশ নিবেন নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক নাসরিন খন্দকার এবং কথক ও গবেষক জান্নাতুল মাওয়া আইনান।
অনুষ্ঠানটি দেখার ও শুনার জন্যে সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।