গঠনতন্ত্র ও কার্যপ্রণালী
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক
১। সদস্যপদ
বাংলাদেশের বাইরে যেকোন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশী এই প্লাটফর্মের সদস্য পদের জন্যে আবেদন করতে পারবেন, যদি তিনিঃ
- ক) ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে এবং মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতাকারী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন,
- খ) এই প্লাটফর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত থাকেন, এবং
- গ) নারীবিদ্বেষী বা বর্ণবিদ্বেষী কোন প্রকাশ্য বক্তব্য প্রদান বা আচরণের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত না হন।
২। পদমর্যাদা
এই প্লাটফর্মটির সকল সদস্য একই মর্যাদার অধিকারী হবেন। ফলে, এখানে কোন নেতা বা প্রধান - উপ-প্রধান পদ বিভাজন থাকবে না (কোন হায়ারার্কি থাকবে না)। সকলের মতের সমান গুরুত্ব দেয়া হবে। তবে, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আগ্রহী যারা থাকবেন, যারা অধিক দায়িত্ব পালন করবেন, তাদেরকে নিয়ে ছোট ছোট উপকমিটির মাধ্যমে কাজ চালানো হবে। সেখনে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন, তবে তারা অন্য সদস্যদেরকে তাদের নেয়া যেকোন সিদ্ধান্ত অবহিত করবেন।
৩। কার্যকরী পরিষদ
আগ্রহী, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন কাজে সবচেয়ে ক্রিয়াশীল সদস্যদের (সর্বোচ্চ সীমা নেই) নিয়ে একটি কার্যকরী পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদে বিভিন্ন মহাদেশের ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং লিঙ্গ, বিশ্বাস, রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভিন্নতার অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এই পরিষদ গঠন, পরিষদে নতুন সদস্যের অন্তর্ভূক্তিকরণ বা কোন সদস্যের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিষদ থেকে সরে যাওয়া - প্রভৃতির সিদ্ধান্ত জেনারেল সদস্যদের মাসিক সাধারণ সভায় নেয়া হবে।
পরিষদের কাজঃ
পরিষদের কাজঃ
- ক) সদস্যপদ গ্রহণ - বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া,
- খ) কোন সদস্যের গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রমাণ সাপেক্ষে সেই সদস্যের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া এবং
- গ) বিভিন্ন কাজের সুবিধার জন্যে তাৎক্ষণিক বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
৪। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ (যোগাযোগ)
প্লাটফর্মের সকল সদস্যের পারস্পরিক মতের আদান প্রদানের জন্যে এবং বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে মূল যোগাযোগের মাধ্যম হবে হোয়াটসআপের বিভিন্ন গ্রুপ। যেমনঃ
- ক) গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক (এনাউন্সমেন্টস): নেটওয়ার্কের সকল সদস্য এই কমিউনিটির সদস্য থাকবেন এবং সমস্ত গ্রুপ গুলো এই কমিউনিটির অধীনে থাকবে। কার্যকরী পরিষদের কয়েকজন সদস্য এখানে এডমিন হিসেবে থাকবেন ও তারা বিশেষ ঘোষণা, সদস্যদের কোন মাঝে কোন পোল বা আমাদের কর্মসূচির লিংকগুলো এখানে পোস্ট করবেন।
- খ) জেনারেল ডিসকাশনঃ নেটওয়ার্কের সকল সদস্যকে নিয়ে একটি জেনারেল ডিসকাশন নামের গ্রুপ থাকবে। সেখানেই সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে আলাপ আলোচনা করা হবে এবং সকলকে সমস্ত কাজের ব্যাপারে অবহিত করা হবে।
- গ) মহাদেশীয় গ্রুপঃ বিভিন্ন মহাদেশ অনুযায়ী আলাদা আলাদা গ্রুপ থাকবে, যেখানে নিজ নিজ মহাদেশের সদস্যদের নিজস্ব আলোচনা করা হবে।
- ঘ) কাজের গ্রুপঃ ফেসবুক, ইউটিউব, বিবৃতি লিখন, ডিজাইন - এরকম বিভিন্ন কাজ অনুযায়ী আলাদা আলাদা গ্রুপ থাকবে।
- ঙ) ওয়েবসভা ভিত্তিক গ্রুপঃ ওয়েবসভা, আলাপ ও সাক্ষাৎকার নামে একটি গ্রুপ থাকবে, যেখানে (অথবা মাসিক সাধারণ সভায়) ওয়েবসভার মূল দায়িত্ব, ওয়েবসভাপত্র লেখক (যদি সদস্যদের বাইরের কাউকে দিয়ে লেখার দায়িত্ব দেয়া হয়), আলোচক ও সঞ্চালক সম্পর্কিত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, প্রতিটি ওয়েবসভাকে কেন্দ্র করে আলাদা আলাদা গ্রুপ তৈরি করা হবে। কোন ওয়েবসভার মূল দায়িত্ব বা পেপার লেখার কাজ যদি সদস্যদের বাইরের কাউকে দিয়ে করানো হয়, সেক্ষেত্রে গ্রুপটি কমিউনিটির বাইরে করা যাবে, তবে সেখানেও নেটওয়ার্কের আগ্রহী সদস্যদেরকে যুক্ত করতে হবে। সেখানকার আলোচনাগুলো প্রস্তাবনা আকারে ‘ওয়েবসভা, আলাপ ও সাক্ষাৎকার’ গ্রুপে অথবা মাসিক সাধারণ সভায় চুড়ান্ত করে নিতে হবে।
৫। মাসিক সাধারণ সভা
কাজের বিস্তারিত পরিকল্পনার জন্যে মাসে কমপক্ষে একবার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাতেই সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। যেকোন মতবিরোধের ক্ষেত্রে যুক্তি-তর্কের ওপরে নির্ভর করা হবে। যুক্তি-তর্কের পরেও যদি কোনো বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো না যায়, ভিন্ন ভিন্ন মত হিসেবেই সকলে গ্রহণ করবেন, যতক্ষণ না তা সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক না হচ্ছে। তবে, বিশেষ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বা কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ওপরে ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সভার আলোচনার ও সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ জেনারেল হোয়াটসআপ গ্রুপে জানাতে হবে। টাইম জোনের সমস্যার কারণে সব মহাদেশের সদস্যদের একই সময়ে সভা করা সম্ভব না হলে, কাছাকাছি টাইম জোনের একাধিক মহাদেশের সদস্যরা একত্রে গ্রুপে মিটিং করতে পারবেন (যেমনঃ আমেরিকা ও ইউরোপ একত্রে, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া একত্রে)। সেক্ষেত্রে মিটিং এর আলোচনার সারসংক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত জেনারেল গ্রুপে জানাতে হবে।
৬। সদস্যপদ বাতিল
বাংলাদেশের বাইরে যেকোন দেশে বাসরত কোন প্রবাসী বাংলাদেশী আমাদের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র পাঠপূর্বক সদস্যফর্ম পূরণ করার পরে কার্যকরী পরিষদ তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানার চেষ্টা করবেন, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদের সাথে সরাসরি যোগসাজশ, গণঅভ্যুত্থান বিরোধী অবস্থান থাকলে, কিংবা নারীবিদ্বেষী ও বর্ণবিদ্বেষী গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলে তার সদস্যপদ গ্রহণ করা হবে না!
আর, ঘোষণাপত্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত হয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করার পরেও একজন সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে, যদি-
আর, ঘোষণাপত্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত হয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করার পরেও একজন সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে, যদি-
- ক) ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ, ঘনিষ্ঠতা বা সুবিধার আদানপ্রদাণের প্রমাণ মিলে।
- খ) ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তথা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দাঁড়ান।
- গ) নারীবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী গুরুতর অভিযোগ প্রমানিত হয়।
৭। সদস্য ফর্ম পূরণের বাধ্যবাধকতা
প্লাটফর্মের প্রতিটি সদস্যকে সদস্য ফর্ম পূরণ করার মাধ্যমেই সদস্য হতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপে সদস্যদের জেনারেল গ্রুপে কোনো সদস্য অন্য কাউকে সরাসরি যুক্ত করতে পারবেন না। ইতোপূর্বে যারা হোয়াটসআপ গ্রুপে যুক্ত হয়েছেন কিন্তু সদস্য ফর্ম পূরণ করেননি, তাদেরকে সদস্য ফর্ম পূরণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।
৮। সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা ও আর্থিক স্বচ্ছতা
অনলাইনে ভালোভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনার নিমিত্তে, যেমন স্ট্রিম ইয়ার্ডের মাসিক/ বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন, ফেসবুক পেইজের, ইভেন্টের ও বিভিন্ন পোস্টের বুস্ট, ওয়েবসাইট তৈরি, ভিডিও এডিটিং এর জন্যে কাউকে নিয়োগ, প্রভৃতি কাজের জন্যে যে অর্থের দরকার হবে, তা কেবলমাত্র প্লাটফর্মের সদস্যদের চাঁদা থেকেই সংগ্রহ করা হবে। কোন বন্ধুপ্রতিম বা শুভানুধ্যায়ী প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দল বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে কোন রকম অর্থ সাহায্য গ্রহণ করা হবে না।
- ক) বার্ষিক চাঁদার পরিমাণঃ প্রতি সদস্য বছরে কমপক্ষে একবার হলেও সদস্য চাঁদা প্রদান করবেন। তবে এই চাঁদার পরিমাণ কত হবে, তা সম্পূর্ণরূপে তিনিই নির্ধারণ করবেন। এই চাঁদার কোন ন্যুনতম বা সর্বোচ্চ সীমা থাকবে না, তবে বছরে ১ ইউরো বা ১ ইউএস ডলার বা ১ পাউণ্ড হলেও চাঁদা দিতে হবে।
- খ) ফাণ্ড সমন্বয়কঃ কার্যকরী পরিষদ একজন সদস্যকে ফাণ্ড সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত করবে। কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে ১ বছর বা ২ বছরের জন্যে এই দায়িত্ব পালন করবেন। বার্ষিক চাঁদা সংগ্রহে সদস্যদের সাথে যোগাযোগের কাজটিতে কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা ফান্ড সমন্বয়ককে যথাসম্ভব সহযোগিতা করবেন, ফান্ড সমন্বয়ক যদি দরকার মনে করেন, তাহলে কার্যকরী পরিষদ থেকে একজন সদস্য সহকারী ফান্ড সমন্বয়ক -এর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
- গ) চাঁদা পাঠানোর পদ্ধতিঃ যতদিন প্লাটফর্মের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট খোলা না হবে, ফাণ্ড সমন্বয়ক তার একাউন্ট নাম্বার নেটওয়ার্কের সদস্যদের সাথে শেয়ার করবেন। সদস্যরা সেই একাউন্টে তার বার্ষিক চাঁদা মানি ট্রান্সফার করবেন। মানি ট্রান্সফারের সময়ে ডেসক্রিপশনে তিনি তার হোয়াটসআপ নাম্বার ও একটি ইউনিক কোডনেম উল্লেখ করবেন, যা তিনি ফাণ্ড সমন্বয়কের কাছ থেকে পাবেন বা সংগ্রহ করে নিবেন। এই কোডনেম সদস্যের আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় জরুরী।
- ঘ) আর্থিক স্বচ্ছতাঃ আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষে, একটি গুগল স্প্রেডশিটে সংগৃহীত সদস্য চাঁদা ও যাবতীয় খরচাদি সদস্যদের সাথে শেয়ার করা হবে। ফাণ্ড সমন্বয়ক প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার ফাণ্ড-সামারি গ্রুপ এনাউন্সমেন্টে জানাবেন।
৯। পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন
এই ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের যেকোন ধারা পরিবর্তনযোগ্য। হোয়াটসআপের জেনারেল সদস্যদের গ্রুপে কিংবা মাসিক সাধারণ সভায় আলাপ-আলোচনা, যুক্তি-তর্ক ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে, ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের ধারা পরিবর্তন করা যাবে।
সর্বশেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫