অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আশু দাবিসমূহ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে
আশু দাবিনামা

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক

  • ১। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্ণ কার্যকর করে সারাদেশের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম, বিশ্বাস, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্যে সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ভাস্কর্য ভাংচুর, লুটপাট এবং মাজার-মন্দির-ওরস শরীফে হামলা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে ও অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
  • ২। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের জন্যে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের জন্যে শক্তিশালী তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের অধীনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে।
  • ৩। গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ ও আহতের তালিকা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। শহীদদের পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। আহতদের চিকিৎসার ভার নিতে হবে ও যারা পঙ্গুত্ববরণ করে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। শহীদদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।
  • ৪। আওয়ামী শাসনামলের যাবতীয় অপরাধকর্মের বিচারকাজ শুরু করতে হবে। যাবতীয় দুর্নীতির শ্বেতপত্র উন্মোচন করতে হবে। দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, এমপি, নেতা, আমলা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, সকলকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। গত ১৫ বছরে চলা সকল হত্যা, খুন, গুম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিচার বহির্ভূত খুন বা আটকের তদন্তের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশের সমস্ত আয়নাঘর বা নিপীড়নকেন্দ্র থেকে এখনো যারা আটক আছেন তাদেরকে অবিলম্বে বের করে আনতে হবে, সেগুলোকে জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত সকলের বিচার করতে হবে। গত ১৫ বছরে বিদেশী শক্তিসমূহের সাথে যত দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক গোপন চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো উন্মোচন করতে হবে, জনবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে।
  • ৫। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এদেশের ছাত্র-জনতার যে বিপুল আকাঙ্ক্ষার জাগরণ ঘটেছে, সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপদান করতে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিলম্বে রাষ্ট্র বিনির্মাণের পরিপূর্ণ রূপরেখা হাজির করতে হবে, এবং এই কাজটিতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে উন্মুক্ত আলাপ-আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
  • ৬। সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে, নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ, বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সারাদেশের ব্যবসায়িক সিণ্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়া, টিসিবি ও ওএমএস এর মাধ্যমে উৎপাদকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য পণ্য কিনে সাধারণ মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রির যে গণবন্টন ব্যবস্থা রয়েছে তার পরিধি ও গভীরতা বিস্তৃত করা ও দুর্নীতিমুক্ত করা- প্রভৃতি পদক্ষেপ জরুরীভাবে নিতে হবে।
Scroll to Top